আমিনুল হক তুষার

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়লেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ভারত, পাকিস্তান এবং মিয়ানমার, হাইতি, ফিলিপাইনের মতো উন্নয়নশীল ও উপকূলীয় দেশগুলো। প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা ও তীব্র তাপদাহের কারণে এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল ও উপকূলীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫-১৭% উপকূলীয় এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিমজ্জিত ও প্রায় ৩০% কৃষি জমি বিলীন হয়ে যাবে; ফলশ্রুতিতে বাস্তুচ্যুত হবে ৩ কোটির অধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিনিয়ত বাংলাদেশকে চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকির সম্মুখীন করে থাকে। এর উপরে রয়েছে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল করে রাখছে। বিভিন্ন সমীক্ষা মতে প্রতি বছর দুর্যোগে গড়ে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) প্রায় দুই শতাংশ সমপরিমাণ কমে যায়, যার আর্থিক মূল্য হিসেবে করলে দাঁড়ায় ৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ (সূত্র: UNDP)। ক্ষেত্র বিশেষে, চরম বন্যার বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই ক্ষতি জিডিপির ৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও আবাদি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় মন্তব্য করা হয়েছে যে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন ১৭ শতাংশ এবং গমের উৎপাদন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে; এবং ব্যাহত হতে পারে বিভিন্ন শস্যের আবাদ।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শ্রম উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশের সমান। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি এবং অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় উপকূলবর্তী দরিদ্র পরিবারগুলোকে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ মেরামত কাজে ব্যয় করতে হয়- যা পরবর্তীতে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে, বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবারকে। বিপুল জনগোষ্ঠীর বাস্তচ্যুতির ঝুঁকির পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ নিরাপদ খাবার পানির সংকটে ইতিমধ্যে ভুগছে; ব্যাহত হচ্ছে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। কর্মসংস্থানের খোঁজে উপকূলীয় অঞ্চলের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী রাজধানী ও নিকটবর্তী শহরে প্রতিনিয়ত অভিবাসন করে – যা শহরাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায়, অভিযোজনে, ঝুঁকি হ্রাসে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে, কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি এবং এ লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে ৮০০টিরও অধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ভিতর গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফ (PKSF) এর অর্থায়নে RHL (Resilient Homestead and Livelihood support to the vulnerable coastal people of Bangladesh), ও Extended Community Climate Change Project-Drought (ECCCP-Drought) প্রকল্প অন্যতম। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্পের ভিতর রয়েছে GEF-UNDP‘র Integrating Climate Change Adaptation into Sustainable Development Pathways of Bangladesh; Blue Economy and Inclusive Development for Climate Justice (BID4CJ) (Funded by Oxfam AusAid), Locally Led Adaptation (LLA) Programme (funded by ICCCAD), Climate Resilient Inclusive Development Program (funded by AIIB) ও বিশ্ব ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্প।

জলবায়ু সহনশীল মজবুত বসতভিটার প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশের ১৯ টি জেলার প্রায় ৪৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় যা প্রায় ৪ কোটি মানুষের আবাসস্থল। এই সকল উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ভিতরে রয়েছে। বাংলাদেশে বিগত ২৫ বছরের দুর্যোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, কক্সবাজার (মহেশখালী, সদর, টেকনাফ) ইত্যাদি জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের (৫-সুপার সাইক্লোন ও ৪-অতি তীব্র ক্যাটেগরির সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের) মোকাবেলা করেছে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি এই সকল অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি, কৃষি জমি নষ্ট, বসতভিটা ও অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হন দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী – ব্যাহত হয় তাদের স্বাভাবিক জীবিকা। টেকসই ও মজবুত ভিত না থাকায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ বসতভিটা মেরামত ও নির্মাণে দরিদ্র পরিবারগুলোর বার্ষিক আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হয়।

বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২ মিটারের কম উঁচুতে অবস্থিত হওয়াতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব ও দুর্যোগ যেমন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এক বিরাট জনগোষ্ঠী। উপরন্তু উপকূলীয় অঞ্চলের চাহিদার বিপরীতে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ, যার বেশিরভাগই বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। অতীতের দুর্যোগের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, শ্যামনগর, কয়রা, শরণখোলা, পাথরঘাটা, রাঙ্গাবালী, সন্দ্বীপ, মহেশখালী ইত্যাদি স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এক দিকে যেমন বসতভিটা ও রাস্তা ঘাটসহ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়, অন্য দিকে জলাবদ্ধতা ও লবন পানির অনুপ্রবেশের জন্য নলকূপ ও ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরে- যার কারণে বিঘ্ন ঘটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় উঁচু ভিটা, মজবুত কাঠামো/টেকসই উপকরণ ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, প্যারাবন ও সবুজ বেষ্টনী দ্বারা সুরুক্ষা, এবং ভাসমান কৃষির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহনশীল বসতভিটা তৈরি করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীল বসতভিটা শুধু উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় নিশ্চিত করবে না, বরং জীবিকায়ন টেকসই করবে ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল বসতভিটার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

l উঁচু ভিটা ও অবকাঠামো: বন্যার বা জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতার চেয়ে ভিত (Plint) বেশি উঁচু করে বসতভিটা তৈরি করা এবং কাঁচা ঘরের বদলে টিন বা কংক্রিটের মজবুত খুঁটি ব্যবহার করা। ঘরের ছাদ টিনের হলে উপকূলের ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতির দিক অনুসারে স্থাপন করা।

l দুর্যোগ সহনশীল উপাদান: বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় উপকরণ (বাঁশ, টিন, সিজনিং করা কাঠ) এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে ঝড়ে কম ক্ষতি হয় এবং সহজেই মেরামত করা যায়। পাকা বসতি বা বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে লবণরোধী সিমেন্ট ও উপকরণ ব্যবহার করা এবং ঢালাইয়ের কাজে স্বাদু পানির ব্যবহার করা।

l বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting): লবণাক্ততা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা।

l সোলার প্যানেল: সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

l স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা: বন্যায় বা জলোচ্ছ্বাসে ব্যবহার উপযোগী উঁচু স্যানিটারি ল্যাট্রিন (রিং স্ল্যাব সহ) স্থাপন করা।

l উন্নত চুলা: পরিবেশ বান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী উন্নত চুলা স্থাপন ও ব্যবহার করা।

l ভাসমান কৃষি ও বাগান: বন্যার পানিতেও চাষাবাদের জন্য ভাসমান বেড (ধাপ) বা বসতভিটার চারপাশে উঁচু বেড তৈরি করা- ও তাতে লবন সহিষ্ণু ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল শস্য ও সবজি চাষ করা। এছাড়া বসতভিটা সংলগ্ন ফিশ ট্যাঙ্ক স্থাপন করে মাছের চাষ (অ্যাকুয়াপনিকস সেটআপ) করা।

l ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সুরক্ষা: বসতভিটার চারপাশে ঘন করে বাতাসরোধী গাছ লাগানো (বেষ্টনী), যা বাতাসের গতি ও জলোচ্ছ্বাস কমাতে সাহায্য করে।

সাধারণত ছোট স্থানে (২২০-৭০০ বর্গ ফুট) একটি টেকসই ও মজবুত বসতভিটা গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্যোগের সময় জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি বিরূপ জলবায়ুতে অভিযোজিত বিভিন্ন জীবিকায়ন ও নিশ্চিত হবে।

মহেশখালীতে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল বসতভিটা নির্মাণের উদ্যোগসমূহ:

গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় ২০২৩ সাল হতে উপকূলীয় ৭টি জেলার ২০টি উপজেলাতে ১৮টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩ লক্ষ জলাবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি হ্রাস ও সহনশীলতার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৮ সালের ভিতর পর্যায়ক্রমে ৩,০০০ চরম জলবায়ু সহনশীল বসতভিটা নির্মাণ করা হবে। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে সহযোগী সংস্থা ‘বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপল’স সেলফ-ডেভেলপমেন্ট’ ইতিমধ্যে ১০০ টির বেশি দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল বাড়ি কুতুবজুম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক, শাপলাপুর, কালারমারছড়া ও ধলঘাটাতে অতি দরিদ্র ও অধিক ঝুঁকিগ্রস্থ পরিবারের জন্য নির্মাণ করেছে। উপকারভোগী বা বাড়ি গ্রহীতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংস্থাটি PRA ও সামাজিক কন্সালটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে স্থানীয় সরকারসহ সকল অংশীজনের মতামত গ্রহণ করেছে।

PKSF কর্তৃক অনুমোদিত ও সরবরাহকৃত ‘ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট হোমস্টেড’ এর ডিজাইন অনুসারে ভিটি উঁচুকরণ, ফাউন্ডেশন তৈরী, ছাদ ঢালাই, টিনশেডসহ বারান্দা তৈরী, পাকা স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ, বন্ধু চুলা স্থাপন ও সোলার প্যানেল স্থাপন ইত্যাদি কাজ সহ একটি ২১০-২২০ বর্গফুটের বাড়ি নির্মাণে সাধারণত ৬০-৬৫ দিন সময় লাগে। যদিও RHL প্রকল্প হতে সর্বোচ্চ ৯০% বসতবাড়ি নির্মাণের ব্যয় বহন করা হয় ও নূন্যতম ১০% ব্যয় উপকারভোগীকে বহন করতে হয়; কিন্তু অনুদান হিসেবে বাড়িগুলো উপকারভোগীর তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিস্ত্রি দ্বারা নির্মাণ করা হয়।

এই সকল উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে (ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি ও রেজিলিয়েন্স সলিউশনস, এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এর উদ্যোগে) দুর্যোগ সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব ‘উভচর বাড়ি (অ্যাম্ফিবিয়াস হাউস)’ নির্মাণ ও করা হচ্ছে যা বন্যাতেও ভেসে যাবে না; যদিও তা সব স্থানের ও পরিবারের জন্য প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, ব্র্যাক UN Environment Programme, UNEP Copenhagen Climate Centre (UNEP-CCC ও NDC Action এর সহায়তায় ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট হাউজিং প্রকল্পের (‘আমার ঘর আমার আশ্রয়’ প্রকল্প) মাধ্যমে ৭০৮ বর্গফুটের ২ তলা বিশিষ্ট ৩৭ টি (প্রতিটির অনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৩-১৪ লক্ষ টাকা) সাশ্রয়ী টেকসই ঘর নির্মাণ করেছে। একটি ৩-৫ সদস্যের পরিবার বসবাস করার পাশাপাশি ব্র্যাক এর এই জলবায়ু সহনশীল বাড়ি দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিবন্ধীসহ ৩০-৪০ জন মানুষকে আশ্রয় দিতে পারে। প্রকল্পটি যদিও পাইলট পর্যায়ে মংলা, বাগেরহাট, মহেশখালী ও কক্সবাজারে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পূর্বে যদিও ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের’ অধীন দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, ভোলা, কক্সবাজার (মহেশখালীতে) বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বেশ কিছু ‘ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট বাড়ি’ নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু ঘরগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগিতা না থাকায় ও লবনাক্ত আবহাওয়াতে টেকসই না হওয়াতে সর্বজন গৃহীত হয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট ঘরের কয়েকটি মডেল চূড়ান্ত হয়েছে ঠিকই- কিন্তু সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার উপযোগিতা ও দুর্যোগ সহনশীলতা যাচাই করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চল যেমন: কক্সবাজারের মহেশখালীতে দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা স্থানীয়দের বসতভিটার অবস্থা, সুপেয় পানির দুষ্প্রাপ্যতা ও জীবিকার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা যায়। এই সকল উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ ও সহনশীল কম খরচে বসতভিটা নির্মাণের মতো ভালো চর্চাগুলোর স্বীকৃতি ও ব্যবহার।

____________________________________________

আমিনুল হক তুষার, সহকারী পরিচালক, বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপল’স সেলফ-ডেভেলপমেন্ট

Email: aminul_haque2000@yahoo.com